1. admin@dainikdurnitirsongbad.com : admin_news :
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গঙ্গাচড়ায় ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে জেলা পরিষদ নিজস্ব অর্থায়নে কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ কৃষকদল নেতার পরিবারের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ রংপুরে এসপিজিআরসি নেতা এম. নাসিম খানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত আরপিএমপিতে বিদায় সংবর্ধনায় “আইনের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নয়” — নতুন ডিআইজি আবদুল মাবুদ রংপুরের ৪ খুনের আগেই কমিশনারের পদায়ন, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি মহল রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ড: আসামির শার্ট নিয়ে পুলিশের কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন আলোচনা রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা নতুন তথ্য দিলো ফরেনসিক বিভাগ। রংপুরে সাংবাদিক লিয়াজ হোসেনের অপারেশন আজ, দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় চার খুন, রাতভর লাশের সঙ্গে ছিল ঘাতকরা: পুলিশ লালমনিরহাটে র‌্যাব-১৩ অভিযানে ১১ কেজি গাঁজাসহ চার নারী গ্রেপ্তার

আরপিএমপিতে বিদায় সংবর্ধনায় “আইনের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নয়” — নতুন ডিআইজি আবদুল মাবুদ

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ বার পাঠ করা হয়েছে
57

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুরঃ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলিজনিত পদায়নের পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নিমিত্তে আজ ২৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বভার অর্পণ করেন। এ উপলক্ষে আজ সকাল ১০:০০ ঘটিকায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে পুলিশ কমিশনার আরপিএমপির পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মারুফ আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন), উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) সনাতন চক্রবর্তীসহ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিদায়ী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে আরপিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

 

বক্তব্যের শুরুতে তিনি তাঁর কর্মকালীন সময়ের সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কর্মজীবনে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে সেখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করাই তাঁর কাজের অন্যতম নীতি। দায়িত্ব ও পদায়নের ক্ষেত্রে হতাশ না হয়ে অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান।

 

পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে আইন ও বিধি-বিধানের মধ্যে থেকেই প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে আইনবহির্ভূত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও পেশাগত ঐক্য বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অধস্তন সদস্যদের কল্যাণ ও প্রয়োজনের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো সদস্য বিপদে পড়লে তাকে যথাসম্ভব সহায়তা করা এবং ভুলের ক্ষেত্রে আইনানুগ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

 

অপরাধ দমন ও তদন্তে পেশাদারিত্ব

চাঞ্চল্যকর মাছুয়াপাড়া হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, সঠিক বিশ্লেষণ, সমন্বিত কার্যক্রম এবং নিয়মিত আপডেট প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত আইন, বিধি-বিধান, গুরুত্বপূর্ণ মামলা ও সাম্প্রতিক পুলিশিং বিষয়ে অধ্যয়ন করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পুলিশের চাকরি একটি ধারাবাহিক শেখার প্রক্রিয়া এবং দায়িত্ব পালনে জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।

 

কৌশলগত পুলিশিং ও জনসম্পৃক্ততা

পুলিশ কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী সংলাপ, সমঝোতা ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা দৃঢ়তার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

তিনি পুলিশ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা গ্রহণের জন্যও তিনি নির্দেশনা দেন।

 

আরপিএমপির উন্নয়ন ও টিমওয়ার্ক

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় ও টিমওয়ার্ক আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

 

তিনি আরপিএমপির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পুলিশ লাইন স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন বা অনৈক্য সৃষ্টি না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাদারিত্ব ও সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, আমাদের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।”

 

নতুন দায়িত্বে সহকর্মীদের সহযোগিতা কামনা

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, রংপুর রেঞ্জ, জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন।

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি কর্মকালীন সময়ে কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান। তিনি সকল সহকর্মীর সুস্বাস্থ্য, সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন এবং নতুন দায়িত্ব পালনে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
কারিগরি সহযোগিতায়: জাগো হোষ্টার বিডি