
নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুরঃ রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।
মাছুয়াপাড়ার চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনার জেরে যোগদানের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে – এমন দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে আরপিএমপি।
গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পরপরই বাংলা ভিশন, বিবিসি বাংলা, বিডিনিউজ২৪, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, যায়যায়দিন, বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলানিউজ২৪ সহ কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয় – চার খুনের ঘটনায় অবহেলার কারণে মাত্র ১৩ দিনের মাথায় আরপিএমপি কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৩ দিন নয়, ৪ মাস তিনি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আরপিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ১৩ দিন নয়, সুনামের সঙ্গে ৪ মাসের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন নিয়ে সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, যাতে জনমনে তাঁর পদায়নকে মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি তথ্যগতভাবে সঠিক নয় এবং এ ধরনের উপস্থাপনা জনমনে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
প্রকৃতপক্ষে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের স্মারক নম্বর-৪৪,০০,০০০০.০০০.০৯৪.১৯.০০৮৫.২৫-২৯৩, তারিখ: ১২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। অর্থাৎ, তাঁর পদায়নের সিদ্ধান্ত মাছুয়াপাড়ার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
২২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা ওই ঘটনার কারণে তাঁর পদায়ন হয়েছে, এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
বরং উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দায়িত্বে থাকাকালীন পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ মহোদয়ের সুদৃঢ় নেতৃত্ব, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর মাছুয়াপাড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি অর্জিত হয়। ঘটনার পরপরই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মাঠে নামে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়।
এ ধরনের একটি চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি এবং আসামিদের গ্রেফতার জনমনে স্বস্তি সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের দক্ষ নেতৃত্ব, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ মনে করে, সঠিক তথ্য জনসাধারণের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন জনআস্থা অটুট রাখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই কোনো ঘটনার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও জনআস্থা রক্ষায় পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply